In 2020, social media will be less social

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা নাটকীয়তা পেরিয়ে এলো ২০২০। ইউএস প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের বিতর্কিত বিজ্ঞাপন, ক্রমাগত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস কিংবা মূলধারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কাছে হুমকি হয়ে টিকটকের আবির্ভাব এবং বীরদর্পে এগিয়ে চলতে থাকা… কম নাটকীয়তা নয় নিশ্চয়ই।

ক্রমাগত এসব সমূল পরিবর্তনে মানুষ কিভাবে নিবে আসছে বছর? সম্প্রতি হটস্যুটের করা জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ থেকে ২০২০ সালের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক উল্লেখযোগ্য কিছু ধারণা তুলে ধরা হলো…

SOCIAL MEDIA GETS LESS SOCIAL

বিতর্ক যেনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পিছু ছাড়ছে না। মানুষেরইবা এতো ঠেকা পড়লো কিসে? তাই তারা বস্তুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরে আসছে। তাই তারা বেছে নিচ্ছে তুলনামূলক অধিক গোপনীয়তা রক্ষাকারী ক্লোসড গ্রুপ বা হোয়াটসএপ এর মতো শুধু বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমগুলো। জরিপ বলছে ৬৩% মানুষ তাদের কনটেন্টগুলো প্রাইভেট যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাগাভাগি করতে অধিক স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে যা ২০২০ সালে আরও বাড়তে থাকবে। ফেসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গ একই কথা বলেছেন ২০১৮ সালে তাদের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন এফএইট এ। তিনি বলেছেন ‘দ্যা ফিউচার ইজ প্রাইভেট’। ফেসবুকের প্রাইভেট মেসেজিং, মাইডে বা ছোট ছোট গ্রুপের অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধিও তাই বলে।

তাই চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে ইন্সটাগ্রামের ক্যামেরা ফার্স্ট মেসেজিং এপ ‘থ্রেড’, লিংকডইনের ‘টিমমেট’ বা ফেসবুকের নতুন ‘পোর্টাল ডিভাইসের’ মতো বিষয়গুলো ইন্টোডিউস করানো হচ্ছে।

COMPANIES GROW A BACKBONE ON SOCIAL MEDIA 

টুইটার থেকে শুরু হওয়া #মিটু আন্দোলন গোটা দুনিয়াতে সাড়া ফেলে দিয়েছে। হাটে ভেঙ্গেছে অসংখ্য হাড়ি। বেরিয়েছে মস্তবড় বিড়ালগুলো। সরেছে অনেকের মুখোশ। এমন যখন পরিস্থিতি, তখন নড়েচড়ে বসেছে দুনিয়াটা। ভাবছে নতুন করে। জরিপ বলছে ৭৩% মানুষ বিগত বছরের চেয়ে অধিক সচেতন কোম্পানি এথিকস এর ব্যাপারে। শুধু তাই নয়, ৬৭% মানুষ কোন কোম্পানি ভ্যালু’র সাথে বনিবনা না হলে সে কোম্পানিতে কাজই করতে আগ্রহী না।

তাই আসছে কোম্পানিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে আরও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। খুব চেষ্টা করবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের আরও দারুনভাবে তুলে ধরার। ‘লেভি স্ট্রোস’ এর নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে চমৎকার অভিষেকের বিষয়টা দেখা যাক… পরিবেশ সচেতনতা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রন আইন, এলজিবিটিকিউ অধিকার – এসব বিষব বিষয়ে সচেতন পদক্ষেপ ও ভূমিকা তাদের এই সুবিধা এনে দিয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেপসি কিংবা জিলেট এর সাম্প্রতিক ব্যর্থ ক্যাম্পেইনগুলোর দিকে তাকালেই বুঝা যাবে আগের মতো আর অগভীর বিষয়গুলো মানুষকে কাছে টানতে পারছে না।

TIKTOK EXPLODES . . . ONE WAY OR THE OTHER

অনেকটা হুট করেই টিকটক আমাদের নজরে আসে তাদের লিপসিংক ভিডিও দিয়ে। যদিও প্রথমে খুব হাল্কাভাবেই টিকটক নিয়েছিলো, কিন্তু পরে বুঝা গেছে বিষ্যটা আসলে ততটা হাল্কা নয়। মার্ক জাকারবার্গ ও তার ফেসবুক বেশ অস্বস্থিতে আছে টিকটককে নিয়ে। সব এপস্টোরে দীর্ঘদিন ধরে টিকটক আছে শীর্ষ ৩ এর মধ্যে। শুধু তাই নয়, তাদের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০০ মিলিয়ন। কি এমন জাদু যা তাদের অল্প সময়ে গগনচুম্বী জনপ্রিয়তা দিয়েছে? হতে পারে সেটা বিজ্ঞাপনের পেছনে তাদের কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয়। দৈনিক শুধু বিজ্ঞাপনের পেছনেই ব্যয় করছে ৩মিলিয়ন ডলার! আবার টার্গেট মার্কেট নির্বাচনে সুকৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও এটার কারন হতে পারে। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যেটা, ব্যবহারকারীদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করার স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ ও সাথে একটু মজা করার সুযোগই তাদের এমন জনপ্রিয়তা দিয়েছে।

প্রশ্নহলো ২০২০ সালে টিকটক কি পারবে এমন জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে? চীনা কোম্পানি হওয়াতে ব্যবহারকারিরা অবশ্য বেশ সন্ধিহান তাদের কাছ থেকে নেয়া তথ্যগুলো টিকটিক কিভাবে ব্যবহার করবে সে ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষ্যে কিছু দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে টিকটক যে হারে নতুন ব্যবহারকারী পাচ্ছে, প্রায় একই হারে হারাচ্ছেও।

তালমিলিয়ে চলাটা টেক জায়ান্টদের কাছে নতুন কিছু নয়। টিকটকের ক্রমধাবমান জনপ্রিয়তা দেখে ২০১৮ সালে ফেসবুক ‘লেসো’ নামের একটা একই ধরনের এপ শুরু করেছিলো যা বলতে গেলে মোটেও জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে ফেসবুকের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান ইন্সটাগ্রামের টিকটক এর ক্লোন সার্ভিস ‘রিল’ মনে হয় সুবিধা করতে পারছে। ২০১৯ সালের শেষ কোয়ার্টার পর্যন্ত তাদের ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। দেখা যাক…

THE INCENTIVE SYSTEM ON SOCIAL MEDIA (FINALLY) EVOLVES

কোথাও যাওয়ার পথে একজায়গায় ভিড় দেখলে আমরা এক মুহূর্তের জন্য অন্তত দেখে যাই আসলে কি হচ্ছে সেটা দেখার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমরা সেরকম। যে পোস্টে লাইক, লাভ, ওয়াও আব কমেন্ট বেশী সেটাই দেখি। এভাবে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলছি অন্যের আগ্রহের গহীনে। বিষয়টা নিয়ে অবশ্য বেশ সক্রিয় উদ্বেগ আর উদ্যোগ দেখা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর।

সম্প্রতি কিছু অঞ্চলে প্রথমিকভাবে পোস্টে পাবলিকলি তাদের লাইক বা কমেন্ট সংখ্যা দেখানো বন্ধ করেছে। উদ্দেশ্য এংগেইজমেন্টগুলোকে আরও অর্থবহ করা। ফেসবুক, টুইটারও একই পথে আগাচ্ছে ধীরে ধীরে। যার ফলস্বরূপ মানুষের আগ্রহের বৈচিত্রতা দেখা যাবে এবং ইনফ্লয়েন্সারদের জনপ্রিয়তায় বিশাল ধ্বস নামবে।

AD OVERLOAD REACHES A CRISIS POINT

টিভি থেকে প্রজম্নের অনলাইনমুখী হওয়ার দুটো কারন। ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুবিধা মতো সময়ে পছন্দের কনটেন্ট দেখা এবং যতোটা সম্ভব বিজ্ঞাপন এড়িয়ে যাওয়া। বিজ্ঞাপন কতোটা বিরক্তিকর সেটা বুঝা যায় বাংলাদেশ-ভারতের একদিনের ম্যাচের ফাঁকে ফাঁকে। একই ঝামেলা বোধহয় অনলাইনেও আমাদের জেঁকে বসেছে। মিসলিডিং বিজ্ঞাপনের পরিনতি যে ভয়াবহ হতে পারে সেটা দেখা যায় মার্কিন নির্বাচনের দিকে তাকালে। সে অন্য এক বিশাল কাহিনী।

বলা হচ্ছে অনলাইনে বিজ্ঞাপন এখন তার তুঙ্গে অবস্থান করছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ৮৬ মিলিয়ন ব্যবহারকারী এডব্লকার দিয়ে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলেন। গবেষনা বলে, ব্যবহারকারীরা মোটেও বিজ্ঞাপন পছন্দ করেন না।

কিন্তু ঝামেলা বিজ্ঞাপন থাকলে এতো বড় কোম্পানি চলবে কিভাবে? ফেসবুকের মোট আয়ের ৯৮% আর টুইটারের ৮৫% আসে বিজ্ঞাপন থেকে। কোন বিকল্প কি নেই? অবশ্যই আছে। আয়ের উৎসের বিকেন্দ্রিকরন অবশ্য প্রয়োজন। উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস ডব্লিউটি সোশ্যাল নামে ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্ল্যাটফর্ম দাড় করানোর চেষ্টা করছেন যার আয়ের প্রধান উৎস হলো ডোনেশন। আবার উইচ্যাট বা কিউকিউ এর প্যারেন্ট কোম্পানি টেনসেন্ট এর আয়ের মাত্র ১৭% আসে বিজ্ঞাপন থেকে। বাকি আয় আসে গেমিং (৩৭%), ই-কমার্স (২৩%) বা অন্য প্রিমিয়াম ভেল্যু এডেড সার্ভিস (২৪%) থেকে।

মোটাদাগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ২০২০ সাল হতে যাচ্ছে বেশ পরিবর্তনের একটা সময়। ব্যবহারকারী, বিশেষকরে রাজনীতিবিদরা বেশী এবং আরও বেশী প্রত্যাশা করছেন। সময়ের সাথে সাথে আমরা আমাদের এই কানেক্টেড ওয়ার্ল্ডের প্রতিবন্ধকতাগুলোকে আরও আবিষ্কার করছি এবং চেষ্টা করছি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আনতে। তবে সে সমাধান কতোটুকু কার্যকরী বা গ্রহনযোগ্যতা পাবে? সেটা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন পর্যন্ত।

ফাস্ট কোম্পানি অবলম্বনে।

ABOUT THE AUTHOR

Ryan Holmes is the CEO of Hootsuite, a social media management system with more than 10 million users. A college dropout, he started a paintball company and pizza restaurant before founding Invoke Media, the company that developed Hootsuite in 2009. Today, Holmes is an authority on the social business revolution, quoted in The New York Times and Wall Street Journal and called upon to speak at TEDx and SXSW Interactive Conferences

হোয়াই শুড আই রেইজ চিকেনস


বিল গেটস ‘হোয়াই শুড আই রেইজ চিকেনস’ শিরোনামে একটা লিখা লিখেছিলেন আজ থেক দু বছর আগে। সেখানে তিনি বিভিন্ন দিক থেকে তুলে ধরেছিলেন কিভাবে মুরগি পালন একটি পরিবারকে স্বাবলম্বি করতে সাহায্য করে। তিনি একটা প্রশ্ন করেছেন। ধরন, ২ ডলার দিয়ে আপনার গোটা একটা সংসার চালাতে হয়, সেরকম পরিস্থিতিতে কিভাবে আপনি অবস্থার উন্নতি করতে পারেন? সমগ্র পৃথিবীর ১ বিলিয়ন মানুষের এই সমস্যাটি রয়েছে। অবশ্যই বেশ কিছু উত্তরও আছে প্রশ্নের তবে বিল গেটস বেছে নিয়েছিলেন যে উত্তরটি, সেটি হলোও মুরগি পালন। তিনি বেশ কিছু যুক্তি ও দেখিয়েছেন।
(১) এদের সহজে এবং কম খরচে লালল করা যায়।
(২) মাংশ, ডিম এবং বাচ্চা, সব দিক বিবেচনায় লাভজনক।
(৩) পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
(৪) সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক।
তিনি ব্যাপারটাকে এতোটাই যৌক্তিক মনে করেছেন যে, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগিতায় একলাখ মুরগি বিতরণ করেছেন।

আজ ৭ মার্চ, আমার জন্মদিন। বার্থডে ফান্ডরেইজিং বাইরের দেশে খুব জনপ্রিয়। প্রতিটি মুরগির দাম ২৫০ টাকা করে ধরলে ১০০ টা মুরগির দাম আসে মাত্র ২৫০০০ টাকা। আমি আপনাদের সহযোগিতায় ১০টা পরিবারে ১০টা করে মুরগি তুলে দিতে চাঁই এবং দেখাতে চাঁই কিভাবে একটা পরিবারের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যেতে পারে। ১০০ টাকা আপনাদের কাছে কিছুই নয়। ২৫০ জন মানুষ ১০০ টাকা করে দিলেই পুরো টাকাটা উঠে যায়। আর তাতেই বদলে যেতে পারে ১০ টা পরিবারের চেহারা। আসুননা, একটু এগিয়ে যাই। সাহায্য করতে অগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে +৮৮০১৮৩৪১৬১২৭১