I Have Promises to Keep

২০১৮, আমার জীবনের পাতায় অমৃত হয়ে থাকবে। এই বছর আমাকে অনেক নতুন, কঠিন অথচ বাস্তব… অনেক অমূল্য শিক্ষা দিয়েছে। অনেক নতুন পথে হেঁটেছি। পথ চলতে চলতে অনেক কিছুকে নতুনভাবেই দেখেছি; পৃথিবী যে এতো বিচিত্র তা ২০১৮ আমাকে আরও গভীর থেকে অনুভব করতে সাহায্য করেছে। কখনো সারারাত কেঁদেছি। আবার কখনো খুশিতে একলাফে আকাশ ছুয়েছি। একটু একটু করে পুড়ছি আর মানুষ হওয়ার পথে চলেছি।

২০১৮ সালে যেসব ব্যাক্তি আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি ভেল্যু এড করেছে তার মধ্যে পারসন ‘অফ দ্য ইয়ার’ হলো সাফাত আল ফাহিম। আমাদের উদ্যোগ – রিফলেক্টিভ টিনস (যাকে ধীরে ধীরে প্রফেশনালি নেয়ার চেষ্টা করছি, প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা করছি) – ব্যাক্তিগত জীবনের সাথে উতোপ্রতভাবে জড়িত। উপরের বর্ণনা থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে ২০১৮ আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ব্যক্তিগত অস্থিরতা, তার মধ্যে এমন একজনকে সাথে পাওয়া ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাহিম এমন একজন মানুষ যে আমাকে ভালো বুঝে, একই মাপের এবং একইভাবে চিন্তা করে, সবশেষ যাকে নির্ভর করা যায়।

এতোকিছুর মধ্যে দিয়ে সবকিছুকে মোটামুটি গুছিয়ে আনতে পেরেছি বলে মনে হয় – এর সবই মহান আল্লাহর কৃপায় আর ফাহিম, নাশিবা, দিয়া আর হাবিবকে সাথে পাওয়ায় সম্ভব হয়েছে। অশেষ ভালোবাসা তোমাদের।

২০১৯ – এখন আল্লাহর রহমতে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই স্থির। ভালোখারাপ সব মুহূর্ত এক করলে নিজেকে খুব ধনী ধনী মনে হয়। যাহোক, সেসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। ২০১৯ আমার জন্য ‘ইয়ার অফ সাসটেনইবিলিটি’ আর্কিমিডিস বলেছিলেন – “give me space to stand i will move the earth” – ছোট্ট একটা জায়গা হয়তো ম্যানেজ করে ফেলেছি। এখন কিছুটা নাড়িয়ে দেয়া যায় কিনা সে চেষ্টায় আছি। মাফ চাই, দোয়াও চাই।

সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে লিখা চিঠি | A letter towards my colleagues

প্রিয় বন্ধুগণ,

আপনারা নিশ্চয়ই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। সবাইকে নতুন বছরের  অগ্রিম উষ্ণ শুভেচ্ছা। কোন প্রতিদান না পাওয়া স্বত্বেও আমাদের সাথে থাকার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। আমি ব্যাক্তিগতভাবে আপনাদের প্রত্যেককেই সমানভাবে সম্মান ও মূল্যায়ন করি। আপনারা জানেন আমরা রিফলেক্টিভ টিনস’কে ‘কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ, বিকাশ ও পরিচর্যার একটি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবাই আমাদের সাংগঠনিক উদ্দেশ্যকে মূল্যায়ন করি বলেই সবার একসাথে এগিয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে। ইতিপূর্বে আপনাদের সকলের সাথেই মিটিং হয়েছে। সেখানে আপনারা আপনাদের দায়িত্বগুলো বুঝে পেয়েছিলেন। আশাকরবো আপনারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সবার প্রতি অনুরোধঃ

(১) আপনারা প্রত্যেকেই নোটপ্যাডে কাজগুলোকে ছোটছোট ভাগে ভাগ করে লিখে রাখবেন।

(২) প্রতি সপ্তাহ/মাস পর পর টিমমেটদের সাথে বসে ইভালুয়েট করবেন।

(৩) কাজগুলোকে প্লিজ আপন করে নিবেন।

(৪) আমাদের টিমে সময়ের প্রেক্ষিতে কিছু পরিবর্তন আসবে, ওয়েবসাইটে খেয়াল রাখবেন।

(৫) আমাদের সবকিছুকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করছি। খুব শীঘ্রই আপনার চোখে পড়বে।

আশাকরি আপনারা সবাই আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিবেন। সময় যতোই খারাপ হোক, লেগে থাকা চাই। একভাবে না হোক, অন্যভাবে হবে। তারপরে শেষ হাসিটা আমরাই হাসবো ইনশাল্লাহ। সবশেষ একটা ঘোষনা, আপনাদের কাজের প্রতিদান দেয়া অবশ্যই সম্ভব নয়, তবুও – কেউ চাইলে শুধু গাড়িভাড়াটা হাতে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে আসতে পারেন। থাকা খাওার দায়িত্ব আমার।

ছোট্ট একটা চিন্তা করার বিষয় দিই – আলাদিনের গল্পে দৈত্বটার কথা মনে পড়ে? তার তো অনেক ক্ষমতা ছিলো, চাইলেই সব এনে দিতো। ওইবেটা সামান্য একটা কলসির ভেতর থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারলোনা কেন? কেনো কলসের ভেতর থেকে দিনের পর দিন অন্যের কথা মতো করে যাচ্ছিলো? স্বাধীন হতে তো সবাই ভালোবাসে। তাও কেন সে হতে পারছেনা সব ক্ষমতা থাকার পরও? জানাবেন আমাকে, যদি কোন উত্তর থেকে থাকে।

ভালো থাকবেন। ভালো রাখবেন।