মেলফাংশান ইন সোসাইটি

ক্ষমতা ও জনসাধারণ

করিম সাহেবের বিগত অনেক প্রজন্মধরে ধনদৌলত আছে। ধনদৌলত বলতে শুধু ধনদৌলতই, আর কিছু নেই। অবশ্য শুধু তাই যথেষ্ট। আর সে ধনদৌলতকে কেন্দ্র করে সমাজে তার একটা ভালো অবস্থানও তৈরি হয়েছে। যাহোক, সে ধনদৌলত রক্ষার জন্য তার গোষ্ঠিতে কিছু লাঠিয়াল বাহিনী আছে যারা মূলত ভদ্রবেশী ডাকাত। রতনে রতন চেনে। এই লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা অবশ্য সমাজের প্রতিষ্ঠিত ডাকাতদের সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকে। যেহেতু এই লাঠিয়াল বাহিনী সমাজের ধনদৌলতওয়ালাদেরই তৈরি করা লোক এবং তাদের আশ্রয়পস্রয়ে বেড়ে উঠা, সেহেতু তারা সমাজে ছোটবড় কিছু অন্যায় করলেও পার পেয়ে যান। কারন সমাজে বিচার করছেন তো ওই ধনদৌলতওয়ালারাই। এই সুযোগে ধনদৌলতওয়ালারাও লাঠিয়ালবাহিনী এবং তাদের সাথে সংযুক্ত ডাকাতদের নানান কাজে, নানান ভাবে, নানান সময়ে ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে লাঠিয়ালবাহিনী (এবং তাদের সাথে সংযুক্ত সমাজের প্রতিষ্ঠিত ডাকাত) ও ধনদৌলতওয়ালা লোকেদের মধ্যে একটা সিনার্জি তৈরি হয় এবং একে অপরের কাজ, প্রভাব ও সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

রাজনীতি ও নির্বাচন

নির্বাচন মানে ধনদৌলতওয়ালাদের ক্ষমতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পালা। ধনদৌলতওয়ালাদের টাকাও আছে, আবার প্রভাবও আছে। ধনদৌলতওয়ালাশ্রেণির নেতারা বৈঠক করে এমন একজনকে নির্বাচনে দাড় করান যাকে ভালো মতো কাজে লাগানো যাবে। তার জয় নিশ্চিত করার জন্য তারা সম্ভাব্য সবটুকুই করেন। টাকা, হুমুকি-ধামকি দিয়া ভোট কেনা, অন্য প্রার্থীদের প্রচারণার ব্যঘাত ঘটানো, প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্র দখল, এমনকি ঘুষ দিয়ে ফলাফল নিজেদের পক্ষ্যে করে নেয়ার মতো ব্যাপার এভাবে ঘটে থাকে। জয় আর ঠেকায় কে?

অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা

ধনদৌলতওয়ালারা ক্ষমতায় তারা চলে এলো। বলে রাখি, তারা টাকা খরচ করে ক্ষমতায় এসেছে মানুষের সেবার জন্য নয়, বরং কাজ, ক্ষমতা, সম্পদ আর প্রভাবের বিস্তৃতির জন্য। নির্বাচনের প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে। তাই প্রথম কাজ হয় সে টাকা তুলে আনা। মেম্বার চেয়ারম্যানদের বেতন তো সর্বোচ্চ হাজার বিশেক, তা দিয়ে কি আর পাছ বছরে বিশ তিরিশ লাখ টাকা লাভ সহ তুলে আনা যায়? সেজন্য তারা ভিজিএফ, ভিজিডি এর কার্ড বিক্রি করে (এটাও আলাদাভাবে বিশাল এক কাহিনী), এলাকার বিচারের সময় ঘুষ খায়, আগে যারা ধনদৌলতওয়ালাদের বিপক্ষ্যে কথা বলেছিলো বা কাজ করেছিলও তাদের ফাসায় ইত্যাদি। এভাবেই অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলার শুরু। তাদের দেখে অন্য গোষ্ঠিরাও প্রভাবিত হয় এবং ধনদৌলতওয়ালাদের পথ অনুসরন করে তারাও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে। যা অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলাকে প্রসারিত করে।

মন ভালো নেই?

সে সকাল থেকেই মন ভালো নেই, মন ভালো নেই বলে বেড়াচ্ছি। ওয়েট… ঠিক সকাল নয়, কাল রাত থেকেই। আমার হঠাত হঠাত এমন হয়। মন খারাপ হলে একেকটা সময় একেকরকম করি। চট্টগ্রামে থাকতে আমি সবচেয়ে কমনলি যেটা করতাম সেটা হলো চুল কাটতে যেতাম। তালিকায় তারপর আছে ডিসি হিলের উপর দিয়ে চেরাগি মোড় হয়ে বাতিঘরে যাওয়া। তাছাড়াও আরেকটা জিনিস আমি করতাম – অচেনা পথ ধরে যেতে থাকতাম। একটা প্যাটার্ন তখন ডিজাইন হয়ে গিয়েছিলো।

অচেনা পথ ধরে হাটা, অচেনা জায়গায় যাওয়া, অনেক উপর থেকে নীচের কিছুকে দেখা, মাক্রোস্কোপের ভেতরে তাকানো – এসব জিনিসগুলো সবাইকে সবসময় টানে। সবটুকু মনোযোগ দিয়ে আমি কাজগুলো আমি করি। তাই মন খারাপ থাকলেও সেদিকে আর মনোযোগ থাকেনা।

যাহোক, খুলনায় এসে এই প্রথম সেরকম মনে হচ্ছে। আগেই মন খারাপ হলে কিসব করি তা বলেছি। এবার একটু ভিন্নভাবে এবং গভীর থেকে বিষয়টাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। (এক) এতোদিন কিছু কাজ যেভাবে চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবে হচ্ছিলো না। এখন সব কাজ একসাথে কাজ করা শুরু করেছে তাই প্রেসারে পড়ে গেছি। তাই মনে খারাপ হয়ে গেলো। (দুই) কয়েকদিন ধরে ঘুম ভালো হচ্ছেনা। (তিন) টার্ম ফাইনালের কথা নাহয় বাদই দিলাম।

প্রথমে অল্প মন খারাপ হয়। তারপর মন খারাপ কেন হলো সে কথা ভেবে আরও মন খারাপ হয়। এবং সর্বশেষ, এতো মন খারাপ কেন হলো সেটার চিন্তায় মন একদমই খারাপ হয়ে যায়। এই হলো অবস্থা।

দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়ই একটা পাওয়ারফুল ব্যাপার। আমি খুব সূক্ষভাবে বিশ্লেশন করে দেখলাম আমাদের চারপাশে এমন অনেক ছোট ছোট কারন আছে যার সংখ্যা আমাদের মন খারাপ হওয়ার কারনের চেয়ে বেশী।

আমি দেখলাম এই মুহূর্তেই আমি বেশ কিছু সেলিব্রেট করার মতো ছোট ছোট কারন বলে দিতে পারি। আমি মসজিতে বসে বসে যখন চিন্তা করছিলাম, তখন আমার পাশেই বন্ধু নাফিস বসে ছিলো। নাফিসকে বললাম আজ আমার মন খারাপ, বিকালে ফুটবল খেলবো। সে সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলো। সে যদি কোন কারনে না করতো? সে নিশ্চয়ই আমার মন ভালো করতে চায়। আবার, সব কাজ একসাথে হচ্ছে, সেটাকে প্রেসার হিসেবে নিচ্ছি কেন? একটু প্রেসার হলেও সেটা তো আমার ভালোর জন্যই। তাছাড়াও বুঝতে পারলাম আসলে আমার বাইরে প্রচন্ড গরম পড়ার কারনে একটু মন খারাপ হয়েছে যেটা নিয়ে আর যা-ই হোক, মন খারাপ করা যায় না। কারন সেটা আমার নিয়ন্ত্রনে নেই।

তাই আমি মনে করি মন খারাপ না করে বরং এভাবে বিষয়গুলোকে চিন্তা করা যাতে পারেঃ

  • মন খারাপের কারনগুলোর মূলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • আশেপাশে ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখলে সেলিব্রেট করার দুয়েকটা কারন পেয়ে যাবেন। বাদ যাবে কোন সেলিব্রেশন – এমনভাবে চলতে পারেন।
  • করতে ভালো লাগে কিংবা মনোযোগ সরিয়ে রাখে সেরকম কোন কাজ করতে পারেন।

এতোটুকুই। ভালো থাকবেন। ভালো রাখবেন।

জীবন থেকে নাই হয়ে যাওয়া একটি দিন

পহেলা মার্চ, ২০১৯। শুক্রবার রাত ১১টা। হানিফ পরিবহনের বাসে চেপে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। যাচ্ছি ‘BRAC Frugal Innovation Forum – 2019’ এ। বাসা থেকে নাফিস, অপু আর রুবেল গিয়েছিলো আমাকে বাসে তুলে দিতে। অটো থেকে নেমে একসাথে চা-কলা খেয়েছি, তারপর বাসে উঠেছিলাম। কাউন্টারে ‘বাম পাশে, মাঝখানের কোনো সিট’ খালি আছে কিনা জানতে চেয়েছিলাম। না পেয়ে অগত্যা ডান পাশের ‘জিথ্রি’ তেই বসতে হলো।

বাস চলছে…চলছে…। পাশের সিটে কেউ নেই। তাই ব্যাগটা খালি সিটেই রাখলাম। যশোরের মনিহার সিনেমা হলের পাশে হানিফের কাউন্টার। রাতে ভাতটাত খাওয়া হয়নি। কোথাও যাওয়ার আগে কিছু খেতে আমার ভালো লাগে না। অবশ্য সে রাতে মেসে বুয়াও আসেননি। ১৫ মিনিটের বিরতিতে একটা চা, একটা কলা খেয়ে নিলাম। একটা পানিও কিনে নিলাম।

বাস আবার চলা শুরু করলো। এখনো পাশের সিট ফাঁকা। বাস পউছালো দৌলতদিয়ার ঘাটে। এবার ফেরির অপেক্ষা। প্রথমে একঘাটে গিয়ে ফেরি না পেয়ে অন্য ঘাটের দিকে চলছে গাড়ি। পথিমধ্যে দুই ভদ্রলোক বাসে উঠলেন। একজন লোক বসতে চাইলেন এবং বসলেন আমার পাশের সিটে। অন্যজন আমার ঠিক পেছনেরটায়। মাঝে অনেক আগে কন্ডাক্টর এসে একবার জিজ্ঞেস করে গিয়েছিলেন কোথায় নামবো। আমি বলেছি গাবতলী। সেটা অবশ্য বাসে উঠার একটু পর পরই। যাহোক…

বাস ফেরিতে উঠলো। ফেরি চলছে। আমি ব্যাগ বাসে রেখেই বাস থেকে ফেরিতে নামলাম। টয়লেটগুলোতে দেখি লাইন পড়েছে। আমি আশাহত হয়ে পাশের ছোট দোকানটায় বসে আছি। দশটাকার ঝালমুড়ি আর একটা লাল চা খেতে খেতে টয়লেটের লাইনও শেষ। শৌচকার্য সেরে আবার বাসে উঠে পড়লাম। পাশের ভদ্রলোক দেখতে খুব হাসিখুশি চেহারার। একদম আমার মতো স্মাইলি ফেস। কাপড়চোপড়ে এতোটাই ভদ্র যে শুধু টাই পড়াটাই বাকি।

ফেরি পার হয়ে বাস কিছু দূর গেলো। পাশে বসা ভদ্রলোক আমাকে অর্ধেক প্যাকেটের একটা এনার্জি বিস্কুটের প্যাকেট থেকে বিস্কুট অফার করলেন। আমি বললাম ধন্যবাদ ভাই, খাবো না। উনি বললেন, না ভাই খান। সমস্যা নাই। আমি একটা বিস্কুট খেলাম। পরে ভদ্রতার সহিত জোর করে আরেকটা বিস্কুট খাওয়ালেন। ওই প্যাকেট থেকে উনিও বিস্কুট খাচ্ছিলেন। তাই সাতপাঁচ না ভেবেই খেয়েছি। আমি তখন আমার বন্ধুর সাথে মেসেঞ্জারে চ্যাট করছিলাম। জিজ্ঞেস করলো ‘কতোদূর গেলি?’ আমি বললাম পদ্মা পার হলাম মাত্র। একটু পর এবার অফার করলেন ফান্টা। সেটাও তিনি যথারীতি ভদ্রতার সহিত জোর করে খাওয়ালেন। আমি প্রথমে এক ঢোক গিলেছিলাম। পরে আরেক ঢোক। এই আরকি। ওই লোকের সাথে তেমন একটা কথা হয়নি গোটা জার্নিতে।

রাত মোটামুটি সাড়ে তিনটা। চোখে ঘুম আচ করা শুরু করেছি। রাত যেহেতু সাড়ে তিনটা, ঘুম আসারই কথা। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম খেয়ালই করিনি।

মাঝে একদিন জীবন থেকে নাই হয়ে গেলো। শুক্রবার রাত (আসলে রাত ১২টার পর তো শনিবারই হয়ে গিয়েছিলো।) গোটা শনিবার অজ্ঞান থাকার পর, রবিবার সকাল নাগাদ চোখ খুলে নিজেকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে আবিষ্কার করলাম ঢাকা মেডিকেলের ব্যাডে। ক্যাথেটার আর ডান হাতে ক্যানুলা লাগানো। চোখ খুলতেই প্রথম দেখলাম বাবাকে। কিরে? কি হলো? আমি কোথায়? এ জায়গাটায় বাংলা সিনেমার কাহিনী মনে হলেও, বিশ্বাস করুন, তাই ঘটেছিলো আমার সাথে। আগের গোটা দিনে কিভাবে কখন কি ঘটেছিলো সেটা সম্পর্কে কিছুই মনে করতে পারছিলামনা আমি। হঠাত এমন অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করে খুবই অস্বঃস্থি বোধ করছিলাম। আবার বোধহয় জ্ঞান হারিয়েছি বা ঘুমিয়েছি বেশ কয়েক ঘন্টার জন্যে। এবার জেগে দেখি ক্যাথেটারও নেই, ক্যানুলাও নেই। বাবা পাশে বসে আছেন আর কপালে হাত বুলাচ্ছেন।

পকেটে থাকা হাজার পাঁচেক টাকা, ব্যাগে থাকা দুই দিনের কাপড়চোপড়, ল্যাপটপ, দুটো বই (এর মধ্যে একটা হলো নিয়াজ আহমেদ এর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ যেটার জন্য অনেক দিন অপেক্ষায় ছিলাম। বেশ কিছুদূর পড়েছি। ভেবেছিলাম যাত্রা পথ আর গন্তব্য মিলিয়ে শেষ করে ফেলবো। সেটা আর হলো কিভাবে!), মোবাইল এর সাথে দুটো পেনড্রাইভ, ব্যাবহৃত ব্রাশ, চার্জার, হেডফোন এবং ব্যাবহৃত জাঙ্গিয়াও খোয়ালাম। তাও ভালো, জীবনটাতো খোয়ায়ইনি। তবে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকেই অনুভব করেছি।

এবার আসা যাক নাই হয়ে যাওয়া দিনটাতে। প্রথমেই বলে রাখি এর সবটুকুই শোনা। সেই ঘুমের ঘোরেই তো অজ্ঞান হয়ে গেলাম। এইদিকে ভদ্রলোক শালা তার পার্টনার সহ সব লুট করে নিয়ে কোথায় নেমে গেলো কে জানে! বাস গাবতলী ছাড়িয়ে কল্যাণপুর চলে এলো। লাস্ট স্টপেজ। কন্ডাক্টর আমাকে কিঞ্চিৎ চেতন অবস্থায় কাউন্টারে নামালেন। আমাকে ফোন নাম্বার জিজ্ঞেস করার পর আমি নাকি আমার বোনের নাম্বার দিয়েছি (যদিও তার কিছুই আসলেই আমি মনে করতে পারছি না)। আপু হতে দুলাভাইয়ের মাধ্যমে উনার এক ছোটভাই আমাকে কাউন্টার থেকে আমাকে নিয়ে যায় পাশের এক ক্লিনিকে। সেখানে আমার প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। তারপর ঢাকা মেডিকেলে। ততক্ষণে আব্বু উড়ে এসেছেন কক্সবাজার থেকে। ঢাকায় থাকা আমার অনেক বন্ধু, বিশেষ করে সুদীপ্ত, হাবিব, সাদমান, ইয়ার মোহাম্মদ, ঢামেকে পড়ুয়া বন্ধু হাসনাত, আমার তালতো ভাই তথা ফিউচার স্টার্টআপের রুহুল কাদের ভাই সহ অনেক আত্নীয় এসেছেন দেখতে। সবার প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা।

যাহোক, অসুস্থতার কারনে একদিন মিস গেলেও কোনভাবে ম্যানেজ করে দ্বিতীয় দিন জয়েন করলাম ব্রাক সিডিএমে তে ‘ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরামে’। সেখানে আমার রুমমেট হলো লাবিব। লাবিব তাজওয়ার রহমান। স্ট্যানফোর্ডে পড়ছেন। বন্ধুবর লাবিব আমেরিকা থেকে বার্সেলোনা হয়ে বাংলাদেশে আসার পথে সেও লাগেজটা হারিয়ে এসেছে বার্সেলোনা এয়ারপোর্টে। এই হলো সম্পূর্ণ ঘটনা।

ওষুধ খাচ্ছি। ঠিক হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। তবে যতদিন এই পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকবো, তার চেয়ে একদিনের কম স্মৃতি থাকবে আমার।

 

This is how I came up with the idea of ‘reflective TEENS’​ 

During my 7th grade in high school, in a random day, I entered in my class and found my best friend – honestly, the best painter I’ve ever seen in such a young age – so annoyed. When I asked about the reason, he replied that his parents putting pressure on him to invest less of his leisure time in painting. He would rather read academic books by that leisure time so that he could ensure few more marks in exam. That really hurt him as he is so much passionate about painting. As my best friend was so disappointed, that made me feels about that problem. After lots of discussions with teachers, few parents and my personal mentors I ended up at, “It’s all about proving yourself. And to prove someone’s capability, s/he must have to get an opportunity to express or expose themselves which is missing. As teenage community is always underestimated or people don’t like to rely them, those talented teenagers are lacking behind. Me, few of my friends and with the help of my class teacher we designed an initiative named ‘reflective TEENS’

Now, reflective TEENS is an internationally recognized research oriented teen based creative platform to expose, incite and incubate their passion & hobby for developing their personality. Besides, reflective TEENS works to create awareness among teenagers about their mind, health and rights.

It’s been like five years we’ve been working. We have reached 30K teenagers from 20+ high schools and represented our activities at 4 different countries.

I Have Promises to Keep

২০১৮, আমার জীবনের পাতায় অমৃত হয়ে থাকবে। এই বছর আমাকে অনেক নতুন, কঠিন অথচ বাস্তব… অনেক অমূল্য শিক্ষা দিয়েছে। অনেক নতুন পথে হেঁটেছি। পথ চলতে চলতে অনেক কিছুকে নতুনভাবেই দেখেছি; পৃথিবী যে এতো বিচিত্র তা ২০১৮ আমাকে আরও গভীর থেকে অনুভব করতে সাহায্য করেছে। কখনো সারারাত কেঁদেছি। আবার কখনো খুশিতে একলাফে আকাশ ছুয়েছি। একটু একটু করে পুড়ছি আর মানুষ হওয়ার পথে চলেছি।

২০১৮ সালে যেসব ব্যাক্তি আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি ভেল্যু এড করেছে তার মধ্যে পারসন ‘অফ দ্য ইয়ার’ হলো সাফাত আল ফাহিম। আমাদের উদ্যোগ – রিফলেক্টিভ টিনস (যাকে ধীরে ধীরে প্রফেশনালি নেয়ার চেষ্টা করছি, প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা করছি) – ব্যাক্তিগত জীবনের সাথে উতোপ্রতভাবে জড়িত। উপরের বর্ণনা থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে ২০১৮ আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ব্যক্তিগত অস্থিরতা, তার মধ্যে এমন একজনকে সাথে পাওয়া ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাহিম এমন একজন মানুষ যে আমাকে ভালো বুঝে, একই মাপের এবং একইভাবে চিন্তা করে, সবশেষ যাকে নির্ভর করা যায়।

এতোকিছুর মধ্যে দিয়ে সবকিছুকে মোটামুটি গুছিয়ে আনতে পেরেছি বলে মনে হয় – এর সবই মহান আল্লাহর কৃপায় আর ফাহিম, নাশিবা, দিয়া আর হাবিবকে সাথে পাওয়ায় সম্ভব হয়েছে। অশেষ ভালোবাসা তোমাদের।

২০১৯ – এখন আল্লাহর রহমতে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই স্থির। ভালোখারাপ সব মুহূর্ত এক করলে নিজেকে খুব ধনী ধনী মনে হয়। যাহোক, সেসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। ২০১৯ আমার জন্য ‘ইয়ার অফ সাসটেনইবিলিটি’ আর্কিমিডিস বলেছিলেন – “give me space to stand i will move the earth” – ছোট্ট একটা জায়গা হয়তো ম্যানেজ করে ফেলেছি। এখন কিছুটা নাড়িয়ে দেয়া যায় কিনা সে চেষ্টায় আছি। মাফ চাই, দোয়াও চাই।

সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে লিখা চিঠি | A letter towards my colleagues

প্রিয় বন্ধুগণ,

আপনারা নিশ্চয়ই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। সবাইকে নতুন বছরের  অগ্রিম উষ্ণ শুভেচ্ছা। কোন প্রতিদান না পাওয়া স্বত্বেও আমাদের সাথে থাকার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। আমি ব্যাক্তিগতভাবে আপনাদের প্রত্যেককেই সমানভাবে সম্মান ও মূল্যায়ন করি। আপনারা জানেন আমরা রিফলেক্টিভ টিনস’কে ‘কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ, বিকাশ ও পরিচর্যার একটি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবাই আমাদের সাংগঠনিক উদ্দেশ্যকে মূল্যায়ন করি বলেই সবার একসাথে এগিয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে। ইতিপূর্বে আপনাদের সকলের সাথেই মিটিং হয়েছে। সেখানে আপনারা আপনাদের দায়িত্বগুলো বুঝে পেয়েছিলেন। আশাকরবো আপনারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সবার প্রতি অনুরোধঃ

(১) আপনারা প্রত্যেকেই নোটপ্যাডে কাজগুলোকে ছোটছোট ভাগে ভাগ করে লিখে রাখবেন।

(২) প্রতি সপ্তাহ/মাস পর পর টিমমেটদের সাথে বসে ইভালুয়েট করবেন।

(৩) কাজগুলোকে প্লিজ আপন করে নিবেন।

(৪) আমাদের টিমে সময়ের প্রেক্ষিতে কিছু পরিবর্তন আসবে, ওয়েবসাইটে খেয়াল রাখবেন।

(৫) আমাদের সবকিছুকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করছি। খুব শীঘ্রই আপনার চোখে পড়বে।

আশাকরি আপনারা সবাই আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিবেন। সময় যতোই খারাপ হোক, লেগে থাকা চাই। একভাবে না হোক, অন্যভাবে হবে। তারপরে শেষ হাসিটা আমরাই হাসবো ইনশাল্লাহ। সবশেষ একটা ঘোষনা, আপনাদের কাজের প্রতিদান দেয়া অবশ্যই সম্ভব নয়, তবুও – কেউ চাইলে শুধু গাড়িভাড়াটা হাতে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে আসতে পারেন। থাকা খাওার দায়িত্ব আমার।

ছোট্ট একটা চিন্তা করার বিষয় দিই – আলাদিনের গল্পে দৈত্বটার কথা মনে পড়ে? তার তো অনেক ক্ষমতা ছিলো, চাইলেই সব এনে দিতো। ওইবেটা সামান্য একটা কলসির ভেতর থেকে নিজেকে বের করে আনতে পারলোনা কেন? কেনো কলসের ভেতর থেকে দিনের পর দিন অন্যের কথা মতো করে যাচ্ছিলো? স্বাধীন হতে তো সবাই ভালোবাসে। তাও কেন সে হতে পারছেনা সব ক্ষমতা থাকার পরও? জানাবেন আমাকে, যদি কোন উত্তর থেকে থাকে।

ভালো থাকবেন। ভালো রাখবেন।

একটি ট্যাক্সময়, ম্যানুয়েল ও রসহীন কিন্তু রম্য রচনা

বিশেষ এক কাজে আমার ‘TIN সার্টিফিকেট’ এর প্রয়োজন হয়েছিলো। এখন খুব সহজে ঘরে বসেই অনলাইনে সেটা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ব্যপার হলো সেটার জন্য যে এনআইডি প্রয়োজন, ওটা আমার নেই। আছে শুধু পাসপোর্ট। সেটাকে কোনভাবে কাজে লাগানো যায় কিনা সেটা দেখার জন্য ঢুঁ মারতে গিয়েছিলাম ‘ইনকাম ট্যাক্স অফিস’ এ। যাওার আগে অবশ্য দুয়েকজনকে ফোন দিয়ে যা তথ্য পাওয়া গেলো তা সম্বল করে রওনা দিলাম। একজন আমাকে বলেছিলেন হেল্পডেস্কে কথা বললেই তারা সব ম্যনেজ করে দিবে। গিয়ে দেখি হেল্পডেস্কে তালা ঝুলছে। ব্যাপার কি? না আজ ছুটির দিন, না বেঠিক সময়? সবই তো ঠিক। অনেকের কাছে জানতে চাইলাম ঘটনা কি, কেন তালা ঝুলছে এসব… গলায় টাই ঝুলানো অনেক ব্যক্তিও ছিলেন আমার জিজ্ঞাসিত জনদের মধ্যে। কেউই ঠিকঠাক জবাব দিতে পারলো না। বিভিন্নজন আবছা আবছা যা বললো, তা একসঙ্গে করলে দাড়াল – ‘যিনি ওটার দায়িত্বে আছেন, উনার পরিবার ঢাকায় থাকেন। উনিও সেখানে গেছেন।’ – মানে ছুটিতে। ভালো। তাই বলে হেল্পডেস্ক বন্ধ থাকতে হবে? উনার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কি কেউ নেই? নাকি শুধু ওই একজনই আছেন? হেল্পডেস্ক হলো এমন একটি বুথ, যেখানে যেকেউ যেকোন মুহূর্তে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা বা নির্দেশনা পেতে পারেন। অফিসের অন্যান্য হর্তাকর্তারা আসুক না আসুক, হেল্পডেস্ক খোলা রাখতেই হবে। যেকোনভাবে।
যাহোক, অভিযোগ জানাতে সোজা গেলাম ‘কর কমিশনার’ এর অফিসে। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি প্রায় ১২ টা। কিন্তু সহকারি জানালেন উনি আসেননি। এবার অনুধাবনে আসলো, ‘প্রতিষ্ঠানের মাথা যেখানে ঠিক নেই, সেখানে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক থাকবে কি করে?’ সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে অবশেষে এমন একজনকে পাওয়া গেলো যিনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন। উনি পরিচয় করিয়ে দিলেন ম্যানুয়েল এক পদ্ধতির সঙ্গে। অনলাইনে আবেদন করতে হবে, সেখানে একটা ইটোকেন দিবে যেটা এখানে এনে জমা দিলে তারা জানিয়ে দিবে আমার টিন সার্টিফিকেট কবে আসবে সেটা। এ জায়গায় ঠিক ‘আসবে’ না বলে ‘আনবো’ বলাটায় ভাল। কারন আমার নাকি টাকা পাঠাতে হবে সেটা ঢাকা থেকে আনার জন্য। হাজার দুয়েকের মতো। কারন হিসেবে জানালেন সেটা নাকি ঢাকা এনবিআর থেকে আসবে। আমি জানতে চাইলাম এটা কি ভাই বিল্ড ইন ম্যানুয়েল নাকি কাস্টম মেড? এটা কি আসলেই ম্যানুয়েল? তাহলে কি আমাদেরই টাকা দিয়ে আনাতে হবে? তিনি হয়তো জানেন। কিন্তু আমার মাথায় নেই। আপনার জানা থাকলে জানাবেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের একজন গবেষণা ফেলো বলেছন আমাদের দেশের ৪৭% কাজ অটোমেশনে আসার সুযোগ রয়েছে। যার মধ্যে গার্মেন্টস সেক্টরটাই সবার উপরে। এ তথ্যটাই আমাকে কিছুটা স্বস্থি দিলো। সরকারকে জানালে ঠিক কতোটুকু কাজ হবে সেটা বুঝেউঠতে পারছিনা। তবে খোদাতায়ালা যদি তাদের উপর একটু সদয় হন, তাহলে বোধ হয় কাজ হতে আরে। তাই সোজা উপরওয়ালার কাছে মর্জি, আপনি এই ম্যানুয়েল কাজ সহ অন্যান্য সকল কাজকে সেই ৪৭% কাজের মধ্যে ফেলে দিন। কাজটাকে অটোমেটেড করার তৌফিক দান করুন। আমিন। রচনাটা শেষ হলো।

বুক রিভিউ | গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং

গ্রোথকে হ্যাক করার অব্যর্থ হাঁতিয়ার রায়ান হলিডের লিখা বই গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং, যেটি বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং এর বাইবেল বলে বিবেচিত। তারই ছায়া অবলম্বনে মুনির হাসানের একই নামে বাংলায় লিখা বইটি কোন অংশেই গুরুত্ব হারায়নি। লেখক এই বইয়ে ধাপে ধাপে দেশের এবং বিদেশের পরিচিত ও অপরিচিত বিভিন্ন উদাহারন দিয়ে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রোডাক্টের কথা সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে হয়। সবস্থরের পাঠক, বিশেষকরে উদ্যোক্তাদের জন্য লিখিত জাদুকরী এই বই মার্কেটিং সম্পর্কে আপনার ধারণাকে নতুন মাত্রা দিতে বাধ্য। লেখক ব্যক্তিগতভাবে এই ক্ষেত্রে নানাভাবে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সেসব অভিজ্ঞতাও যুক্ত করা হয়েছে এই বইয়ে যা আপনাকে আলোচ্য বিষয়গুলো দেশীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বুঝতে সাহায্য করবে। সবমিলিয়ে বইটি আমার দৃষ্টিতে একটি সু ও সুখপাঠ্য। পাঠক, লেখক সম্পর্কে আমি শতভাগ আত্ববিশ্বাসী ছিলাম বলেই বইটি কিনেছি। আমি হলফ করে বলতে পারি আপনার সময় ও টাকা কোনটাই জলে যাবেনা।

কলকাতায় ফেরার পথে

সুদীপ্ত। আমার বন্ধু। বেশ গোবেচারা টাইপ ছেলে বলতে পারেন। ঠিক ৭টা ৫মিনিটের ট্রেন। আনন্দ বিহার থেকে ছাড়বে। যাচ্ছি হাওড়া। অল্প কিছুতেই অনেক বেশী ভয় পেয়ে যায়, অনেক বেশী চিন্তায় পড়ে যায় – এই হলো তার স্বভাব। থাকছি দোয়ারকা; কাকার বাসায়। ট্রেন যাতে কোনভাবেই মিস না হয় তার জন্যেই যতো তোরজোড়। ভোর সাড়ে চারটায় এলারম সেট করে, ন ডিগ্রী তাপ থেকে রক্ষে পেতে, গায়ের উপর দুদুটো লেপ চাপিয়ে ঘুম দিলাম ঠিক রাত দশটায়।

এলারম বাজার সাথে সাথেই সুদীপ্তের চেঁচামেচিতে আমার ঘুম ভাঙলো। মুখহাত ধুয়ে কাকির দেয়া বড় একপ্যাকেট নাস্তা সম্বল করে বেরিয়ে পড়লাম। যখন বেরুচ্ছি, সময় তখন ভোর পাঁচটা। আমি ভেবেছিলাম এতো ভোঁরে রাস্তা নিশ্চই ফাঁকা। রাস্তায় নেমে দেখলাম গোটা চিত্রটাই ভিন্ন। গাড়ি, গাড়ি আর গাড়ি। দিল্লির রাস্তা এখনো পুরোটাই জীবন্ত। আমি বোকা। মানছি দিল্লির মতোন এক শহরে এমন ফাঁকা রাস্তা আশা করাটা ঠিক হয়নি। তাই বলে এতোটা যে বোকা সেটা কিন্তু আগে বুঝিনি। আমরা উবারে চেপেছি। আশপাশ দিয়ে অনেক গাড়ি যাচ্ছে। অনেকগুলো মোটরসাইকেলও দেখা যাচ্ছে। সবগুলোতেই সামনে একটা ছেলে আর পেছনে একটা মেয়ে। দুটো ব্যাপার। এক – আমরা যেহেতু ষ্টেশনের রাস্তা ধরে যাচ্ছি তাই এটাতে এসময়ে অনেক গাড়ি থাকতেই পারে। দুই – এখানে রাত দশটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ক্লাব-বারগুলো খোলা থাকে। হয়তো সারারাত আনন্দ করার পর ছেলেরা মেয়েগুলোকে ড্রপ করে দিতে যাচ্ছে।

সে যাই হোক। ট্রেনে উঠেছি। স্লিপার ক্লাস। বগি খুঁজে পেতে সমস্যা হলোনা। ভুলোমনা বলে জুতা আর ব্যাগ একসাথেই রাখলাম। এটলিস্ট জুতো ছাড়া তো ট্রেন থেকে নেমে পড়বোনা। আর জুতো নিতে গেলেই ব্যাগটা চোখে পড়বে। এই হলো আমার লজিক। পাশের সীটে বসেছে ওয়েস্ট বেঙ্গলের এক ছোট পরিবার। বাবা, মা আর ছোট্ট একটা মেয়ে। এসেছিও ট্রেনে। গতো সপ্তাহের পুরোটাই প্রোগ্রাম আর ঘুরাঘুরি নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত ছিলাম যে, ভারতীয় ট্রেনে লম্বা ভ্রমনের ব্যাসিক কিছু প্রস্তুতি নিতে ভূলে গিয়েছি। যার মাশুল এখন দিতে শুরু করছি। জানালার সাটার কোন এক অদ্ভূত কারনে পুরোটাই বন্ধ করা যাচ্ছে না। ট্রেন যতো তেজ পাচ্ছে, ততোই হাওয়া হুড়হুড় করে ঢুকছে। সবাই মোটা কাথাকম্বল নিয়ে এসছে এখানে। তাই তাদের কোন সমস্যা নেই। যতো সমস্যা আমাদেরই। ব্যাগ থেকে কোট আর লুঙ্গিটা বের করে ম্যনেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেই চলেছি। মাথার নীচে ব্যাগ, গা আর মুখের উপর কোট এবং পায়ের উপর লুঙ্গিটা – এই হলো আমার ব্যর্থ চেষ্টার বর্ণনা। মোটেও ভূল ধারণা করার কারন নেই। আমি জামাকাপড় পড়েই উঠেছি। সে জামাকাপড়ের উপরেই আবার এসব। তবুও কাজ হচ্ছে না।

ঘুমোতে না পেরে ব্যগ থেকে ল্যাপটপটা বের করলাম। অল্পঅল্প ভয় করছে। ঝাপ্টা পার্টির ভয়। কোন সময় কেড়ে নিয়ে চলে যায়। তখন আমার কিছু বলার থাকবেনা।

পাশের ওই ওয়েস্ট বেঙ্গলের মহিলা আমার মায়ের বয়েসি। উনারা দুটো কম্বল নিয়ে এসেছেন। আমাদের দেখে উনার ভালোবাসার উদয় হলো। কিন্তু সমস্যা হলো স্লিপার ক্লাস। স্বামীস্ত্রী দুজন উপর-নীচে দুই বিছানায়। বাচ্চাটা মায়ের সাথে নীচেরটায়।

আমি যতক্ষণে এটাওটা করছি, ততক্ষনে তার ঘুম থেকে উঠে গেছে। শুধু ছোট্ট মেয়েটা উঠেনি। ট্রেনে উঠার পর ওই মহিলার সাথে আমাদের অল্প কথা হয়েছিল। তাই এখন কথা বলতে আর বেগ পেতে হলো না। মেয়েরা একটু ওই রকমই। খুব আবেগ তাদের। বললো – “বাবা, আনোনি কিছু?” “খুব ঠান্ডা লাগছে না?” “কিনোনি কেনো?” এরকম অনেক প্রশ্ন। শেষে বললো – “বাবা, আমার মেয়েটা উঠুক। তারপর কম্বলটা আমি তোমাদের দিবো। ঘুমিয়ে নিও একটু।”

 

 

 

the WRONG way!

The most alarming fact is ‘65% of today’s school kids will end up in a job that hasn’t been invented yet’. Yeah, we may not know what those jobs are but can predict those future skills. According to World Economic Forum – Problem Solving, Critical thinking, Emotional intelligence, Cognitive flexibility are some of those future skills. Peoples like Shams jaber of Tech Academy from Bangladesh or Sonam Wangchuk of SECMOL from India are trying to break the barrier and developing a new system of education. It’s been late already. Though, just to prepare our kids for the future, for the shake of this entire world, we should focus on a skill based education system that will be thousand times better.