আমি যেভাবে সময় বাচাই বা কাজে লাগাই

পৃথিবীতে আমার কাছে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে সময়ের মূল্য সবচেয়ে বেশী – এই একটা লাইন পড়তে পড়তে যে মুহূর্তটা চলে গেলো সেটা আপনি চাইলেও ফিরে আসবেনা। তাই আমি চেষ্টা করি কীভাবে সময়কে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় তার একটা উপায় খুঁজে বের করার এবং প্রতিনিয়ত সেটাকে আপডেট করার। এই লেখায় আমি চেষ্টা করবো আমি যেসব উপায় অবলম্বন করি তার একটা তালিকা তৈরি করার, যেটা হয়তো আপনাদের কাজে লাগতে পারে।

এক – সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গেলে প্রথমেই আপনার যা দরকার তা হলো সত্যিকার অর্থেই সময়কে বাঁচানোর বা কাজে লাগানোর গুরুত্ব অনুধাবন করা। এই প্রচেষ্টাকে কোনোমতেই হালকা ভাবে নেয়া যাবেনা। তাই প্রথম ধাপটা হলো নিজের মধ্যে এই অনুধাবন সৃষ্টি করা।

দুই – দিনের শেষে পরের দিনের জন্য আপনার একটা টুডু লিস্ট তৈরি করে ফেলতে হবে। যখন রাতে ঘুমোতে যাবেন একবার চোখ বুলিয়ে নিন, যাতে পরের দিনের বিশেষ করে সকালের কোন কাজ ছুটে না যায়। টুডু লিস্টের আরেকটা সুবিধা হলো এতে আপনি নিজের অগ্রগতিকেও মাপতে পারবেন।  

তিন – সোস্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম আমাদের দিনের দীর্ঘ একটা সময়কে অজান্তে নষ্ট করে দেয়। আমরা সবাই এমনটা বুঝার পরও এসবকে ছাড়তে পারিনা। মাস দেড়েক আগেও নিজের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তেমনই ছিলো। তবে একটা কারণে আমি দ্রুত নিজেকে বদলে ফেলতে পেরেছি। আমি জানতাম, সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবেশ মানসিক স্বাস্থ্য ও সময়ের অপচয় সহ নানান কারণে টক্সিক বা বিষাক্ত। তবে আনমনে একটা ধারণা নিজের মধ্যে কাজ করতো। তা হলো, এটা ছাড়া বোধহয় দিনাতিপাত করা অসম্ভব। এর মধ্যে আমি এমন বন্ধুকে খুঁজে পাই যে গতো বছর দুয়েক ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াই চলছে। তার সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমার ধারণা বদলে গেলো। কারন আমার সে বন্ধুটাই আমার সামনে একতা জ্যান্ত উদাহরণ হয়ে উঠলো।

  • আমি দ্রুত ফোন থেকে ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম এপটা আনইনস্টল করে দিলাম যাতে একসেস করার একটু দুরহ হয়।      
  • সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা কমিয়ে দিলাম যাতে আগ্রহটা কমে যায়। কারন আমরা ফেসবুকে কিছু দেয়ার পর বার বার লাইক-কমেন্ট চেক করার একতা প্রবনতা তৈরি হয়। তাই পোস্ট করা কমিয়ে দিলে সেটা থেকে বাঁচা যায়।
  • শুধুমাত্র মেসেঞ্জারটা রেখে দিলাম যোগাযোগ রক্ষার জন্য। এবং একটা সময় ঠিক করে রাখলাম যে সময়টা আমি মেসেঞ্জারে দিয়ে থাকি।

এটা আমার জন্য খুব কাজে দিয়েছে। যেমন গত দেড় মাস ধরে আমি প্রতি সপ্তাহে ফেসবুক টাইমলাইন চেক করেছি এক/দুই বার। তাও একেকবার এক মিনিটের বেশী নয়। হ্যাঁ, এভাবে মেনে চলা সবার জন্য সহজ নয়। তবে আমার মনে হয় নিজেকে বেঁধে ফেলা গেলে তা ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যায়।

(বিশ্বাস করুন, এক ফেসবুক থেকে বেঁচে থাকা আমার সময়কে যেমন অনেকটুকু বাচিয়ে দিয়েছে, তেমনি মানসিকভাবে স্থিতিশীল করেছে। এখন সারাদিনে একবারও ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের কথা মাথায় আসেনা আমার)

চার – যদি আপনার এমন কোন কাজ থাকে যেটা রিপিটেটিভ, তার জন্য দিনের একটা সময় নির্ধারন করে রাখুন। সে সময়টা আসলে সবকিছু ছেড়ে ওই কাজ শুরু করে দিন। আমার জন্য লেখালেখি সেরকম একতা কাজ। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ল্যাপটপ নিয়ে লেখা শুরু করি।

পাঁচ – গুগল ক্যালেন্ডারের সদ্যব্যবহার করা আপনার সময়ের অনেকটুকু বাঁচিয়ে দিতে পারে। যে কাজই থাকুক, প্রথম কাজ হওয়া উচিৎ ক্যালেন্ডারে তার একটা রিমাইন্ডার সেট করে রাখা এবং কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে এলার্ট দিয়ে রাখা। এতে আপনি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সময়ও পাবেন।

ছয় – অনেকেই আছেন যারা গেম-আড্ডা-সিনেমায় অনেক সময় কাটিয়ে দেন। বিনোদন সবারই প্রয়োজন। তবে তার একটা মাত্রা থাকা উচিৎ বলে মনে করি। প্রতিদিনই আপনার নিয়ম করে আড্ডা দিতে হবে বা গেম খেলতে হবে এমন কিন্তু নয়। আর হ্যাঁ, কাজের জন্য কিছুদিন হয়তো আপনি আড্ডা মিস করবেন। তবে এর বিনিময়ে আপনি এমন কিছু পাবেন যা আপনাকে অনেকটুকু এগিয়ে রাখবে।

শেষকথা – আমার দৃষ্টিতে কোন নতুন অভ্যাস তৈরির সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শুরু করে দেয়া। আর, নতুন অভ্যাস তৈরি অবশ্যই কঠিন। তবে একবার যদি নিজেকে বেঁধে ফেলা যায়, তাহলে ক্রমেই তা সহজ সাধ্য হয়ে যাবে।

প্রিয় পাঠক, আপনার জন্য শুভকামনা! ভালো থাকবেন।  

Please follow and like us:
error0
fb-share-icon0
fb-share-icon20